নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মুন্সিগঞ্জে নিখোঁজের ৫০ দিন পর গবাদি পশুর ফার্মের রান্না ঘরের ভিতরে মাটির নিচে প্রায় ১০ফুট গর্ত খুড়ে পাওয়া গেছে এক আলু ব্যবসায়ীর মরদেহ।

নিহতের স্ত্রীর ভগ্নিপতির সাথে পরকীয়া প্রেম ও আর্থিক লেনদেনের বিরোধের জেরে নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে নিহতের স্ত্রী রাণী বেগম।

বুধবার বেলা ১টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম।

তিনি জানান,গত ৯ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন ব্যবসায়ী বৃদ্ধ আওলাদ হোসেন। এ ঘটনায় গত ২৩ মে তার ভাই আব্দুল আউয়াল শেখ বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান চেয়ে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

সেই সূত্র ধরে,গত ৩১মে ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহবাজন হিসেবে প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি ও নিহতের স্ত্রীর ভগ্নিপতি মোশাররফ হোসেন মানিক (৩০) কে আটক করে পুলিশ।

এরপর,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘ এক মাসের তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর লোমহর্ষক বিভিন্ন তথ্য।

পরে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সহযোগিতায়, সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে গ্রেফতার করা হয় সাইফুল ইসলাম নামের আরো একজনকে।

এরপর তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী,সিরাজদিখানের চাইনপাড়া সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে মোঃ রিপন মিয়া (৩৪) ও বিন আমিন শেখ (৩৫) নামের আরও দুজন-কে।

পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সাথে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে,জবানবন্দি দেয় জড়িতরা।

এরপরে অভিযুক্তদের সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নে চাইনপাড়া গ্রামে নিহতের বসতবাড়ির পাশের একটি গবাদি পশুর রান্নাঘরের ভিতরে গ্রেফতারকৃতদের দেখানো স্থানে মাটির নিচে প্রায় ১০ফুট গর্ত খুড়ে নিহত ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন (৬০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আওলাদ হোসেন একই গ্রামের মৃত ফরিদ শেখের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান,ব্যক্তিগত জীবনে নিহত বৃদ্ধ ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী নাজমা বেগম মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় স্ত্রী সম্পত্তি লিখে নেওয়ার জন্য আওলাদ হেসেনকে চাপ সৃষ্টি করে। আওলাদ হোসেন সম্পত্তি স্ত্রীকে লিখে না দেওয়ায় সাইফুল নামে একজনের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ মাটির নিচে পুতে রাখেন দ্বিতীয় স্ত্রী পলাতক রাণী বেগম। এর প্রায় ৫০ দিন পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম জানান,ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী নিহত ব্যবসায়ী দ্বিতীয় স্ত্রী রাণী বেগমকে দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এছাড়া গ্রেফতারকৃত বাকি আসামিদের বিকেলের মধ্যে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।