
আলী আক্কাস -(নিজস্ব প্রতিবেদক):
মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কান্দাবাড়ি ও সরিষাবন এলাকার পদ্মা নদীর তীরে নদীভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
রবিবার (৭ জুন) বেলা ৩টার দিকে ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখেন তিনি পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা, বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন।
এরপর তিনি,ভাঙনের কারণে আতঙ্কে থাকা স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে অবগত হন।
এ সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন,টংগিবাড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয়রা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে কান্দাবাড়ি ও সরিষাবন এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ হুমকির মুখে রয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙনের ফলে কৃষিজমি, বসতভিটা, রাস্তাঘাট এবং বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে তাদের মূল্যবান জমি হারিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
পরে পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেন এবং নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
এ সময় নদীভাঙন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
জেলা প্রশাসকের এই সরেজমিন পরিদর্শনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কান্দাবাড়ি ও সরিষাবন এলাকার নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ভাঙনের হুমকিতে থাকা হাজারো মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষা পাবে।
