নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কান্দারবাড়ী এলাকায় দ্বিতীয়বারের মতো মানববন্ধন করেছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বেলা ১২টার দিকে আয়োজিত এ মানববন্ধনে দিঘীরপাড় সেতু নির্মাণ, কান্দারবাড়ীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং দিঘীরপাড় খেয়াঘাট থেকে বানিয়াল পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের দাবিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজনের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। তারা বলেন, বছরের পর বছর ধরে চরাঞ্চলের মানুষ যোগাযোগ, নদীভাঙন এবং অবকাঠামোগত সংকটে বসবাস করছেন। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এলাকার মানুষের মৌলিক যোগাযোগব্যবস্থার তেমন উন্নয়ন হয়নি। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, দিঘীরপাড় সেতু নির্মিত হলে চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। শিক্ষার্থীরা সহজে বিদ্যালয়-কলেজে যেতে পারবে, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাত করা যাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

মানববন্ধনে কান্দারবাড়ীতে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। বক্তাদের ভাষ্য, প্রতি বর্ষা মৌসুমে নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

এ ছাড়া দিঘীরপাড় খেয়াঘাট থেকে বানিয়াল পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, কাঁচা রাস্তার কারণে বর্ষাকালে চলাচল প্রায় অচল হয়ে যায়। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত এ সড়ক পাকাকরণ করা হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় তৌহিদ খান,  আক্তার গাজী, মো.জাফর খান, আব্দুল কুদ্দুস, সবুজ হাসানসহ আরও অনেকে।

তৌহিদ খান বলেন, “চরাঞ্চলের মানুষ কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছে না। আমরা শুধু ন্যায্য অধিকার ও সমান উন্নয়ন চাই। একটি সেতু, একটি স্থায়ী বাঁধ এবং একটি পাকা রাস্তা এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান বদলে দিতে পারে।”

আক্তার গাজী বলেন, “প্রতিবার নির্বাচনের আগে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। আমরা আর আশ্বাস নয়, বাস্তবায়ন দেখতে চাই।”

সবুজ হাসান বলেন, “একজন রোগীকে হাসপাতালে নিতে, একজন শিক্ষার্থীকে স্কুলে যেতে কিংবা একজন কৃষককে বাজারে যেতে প্রতিদিন কষ্ট করতে হয়। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজন নারী বলেন, বর্ষাকালে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো, চিকিৎসার জন্য বের হওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই উন্নয়ন বৈষম্য দূর করে চরাঞ্চলের মানুষের মৌলিক অবকাঠামো নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো চরাঞ্চলের মানুষেরও সমান নাগরিক অধিকার রয়েছে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় চরাঞ্চলকে অবহেলা করলে বৈষম্য আরও বাড়বে। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে আয়োজকেরা বলেন, দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।