নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মুন্সিগঞ্জে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় চুরি যাওয়া একটি মোটরসাইকেলসহ পাঁচটি চোরাই ও চোরাই সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে লৌহজং উপজেলার একটি দর্জির দোকান থেকে ১১শ পিস ইয়াবা ও দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর উত্তর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ৯ জুলাই বিকেলে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার আহাদি মাদবর কান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. সজিব পদ্মা সেতুর (উত্তর) থানার পশ্চিম কুমারভোগ এলাকার নুরানী জামে মসজিদের সামনে তাঁর কালো রঙের সুজুকি ২৫০ সিসির মোটরসাইকেলটি রেখে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে সেটি আর খুঁজে পাননি। পরে তিনি পদ্মা সেতু (উত্তর) থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

সেই সূত্র ধরে, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে।

এরপর,রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নিতাইগঞ্জ বাপ্পী চত্বর এলাকা থেকে মো.সুমন (২৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে অভিযোগকারীর চুরি যাওয়া ২৫০ সিসির মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

পরে সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার বেতকা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হৃদয় দেওয়ানকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর হেফাজত থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি ডিসকভার ১২৫ সিসির মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

এরপর, হৃদয়ের তথ্য অনুযায়ী টংগিবাড়ীর আমতলী এলাকা থেকে সজীব পাইককে (২৪) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকেও একটি হাঙ্ক ১৫০ সিসির মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়, যা চোরাই সন্দেহে উদ্ধার দেখানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে, পুলিশ সুপার আরও জানান,তদন্তের এক পর্যায়ে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকার একটি দর্জির দোকানের পেছন থেকে আরও দুটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন পালসার ১৫০ সিসির মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেল দুটির ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর ঘষামাজা করে অস্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে মুন্সিগঞ্জ সহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সংঘবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল চুরি করে নম্বর প্লেট ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে বিক্রি করে আসছিলেন।

তিনি আরো জানান, একই অভিযানে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকার মর্জিনা বেগমের দর্জি দোকানের ভেতর থেকে আলাল ওরফে আলা উদ্দিনের কাছে তল্লাশি চালিয়ে ১১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে,গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।