
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জে দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ০৮ জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আজ রবিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত কয়েক দফায় সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের মিজিকান্দি এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘদিন যাবত জায়গা- সম্পত্তি ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দেওয়ানকান্দি এলাকার স্থানীয়, সরাবেশ সরকারের সঙ্গে বিরোধ চলছিলো বোরহান মিঝি ও তার ছেলে জাহাঙ্গীর মিঝির।
সেই সূত্র ধরে, সকালে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ভাঙচুর চালানো হয় কয়েকটি ঘর বাড়িতে।৷ এতে উভয় পক্ষের হামলায় অন্তত ৮/১০ জন আহত হয়।
আহতদের মধ্যে আলমগীর বেপারি, রবিন বেপারি, দুলাল বেপারি, সাব্বির বেপারি, আকতার বেপারি ও দিলা দেওয়ান রয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে গুরুতর আহত রবিন ও দুলালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সরাফত আলীর অভিযোগ, জমি দখলকে কেন্দ্র করে বোরহান মিজি ও তার লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মুন্সিগঞ্জ জেলার হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. রুহুল আমিন জানান, আহতদের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিনি বলেন,দুপুরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে নিয়ে আসলে। গুরুতর অবস্থায় আহতদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। এছাড়া অন্যান্য প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।
এদিকে আহতদের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা চলাকালীন সময় ফের আবারো উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে, মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তছলিম উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এক পক্ষ বেশ কয়েকজনকে আসামি করে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেছে – পরে অভিযুক্ত একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি জানান,ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চালানোর হচ্ছে,পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে নেয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।
