এ এম সাদ্দাম হোসেন ॥ রাজধানীর নারিন্দা এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ মনু মিয়া। এলাকাতে নামিদামী হোটেল ও ৫তলা বাড়ির মালিক তিনি। ছেলে রানা মিয়াকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য গত ৩ বছর আগে তিনি নিজের ৫তলা বাড়িটি বিক্রি করে দেন এবং যাবতীয় টাকা ২ ছেলেমেয়েকে ভাগ করে দেন। ঘটনাক্রমে কিছুদিন আগে তার ছেলে রানা মিয়া অবহেলিত অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে ফেলে যান রেলস্টেশনে।

সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণ তাকে স্টেশন থেকে হাসপাতালে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য।
ঘটনার একদিন পর “পারি ফাউন্ডেশন”এর উদ্যোগে তারা ছেলে রানা মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলেন। এক রকম অনিচ্ছা নিয়ে হাসপাতালে দেখতে আসে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে।
অবাক করার বিষয় যে, অশ্রুসিক্ত চোখে ছেলেকে দেখার পরেও বৃদ্ধ বাবা বিন্দুমাত্র খুশি হননি এবং ফিরে যেতেও চাইলেন না। বৃদ্ধ বাবার প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা ভালোবাসা নেই ছেলের আচরণ ও ভাষায়, নেই কোনো অনুশোচনাও। এক পর্যায়ে কথা বলার পর বৃদ্ধ বাবাকে ফিরিয়ে না নিতে বিভিন্ন অজুহাত দেখায় ছেলে রানা মিয়া। পরবর্তীতে তার মেয়ে রুনার সাথে যোগাযোগ করলে- বৃদ্ধ বাবার দায়িত্ব এড়াতে তিনি দেখা করতে অস্বীকার করেন।
মনু মিয়ার ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! যার কিছুদিন আগেও নিজের সুখী পরিবারসহ ৫তলা একটি বাড়ি ছিলো কিন্তু বর্তমানে তিনি নিঃস্ব। মনু মিয়ার সন্তানেরা তার দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করলেও পথে বসতে হয়নি মনু মিয়াকে। “পারি ফাউন্ডেশন”-এর পদক্ষেপে তাকে স্থানান্তর করা হয় একটি বৃদ্ধাশ্রমে।
আমাদের কাম্য : এমন ভাগ্য-বিড়ম্বনায় যেনো দুনিয়ার কোনো বাবা মা না পড়ে; বৃদ্ধ বাবা মা সমাজের বোঝা নয়, তারা আমাদের অমূল্য সম্পদ।
