নিজস্ব প্রতিবেদক:

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের নিমতলা এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে থেমে থাকা অ্যাম্বুলেন্সকে ধাক্কা দেয় একটি বাস। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন দুই নারী সহ অ্যাম্বুল্যান্সের ৫ যাত্রী। এর মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য ও বাকি দুজন নিহতদের নিকট আত্মীয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।
বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোগী নিয়ে এম্বুল্যান্সটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিলো। পথে সিরাজদিখানের নিমতলা এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্সের চাকা বিকল হয়ে যায়। এরপর মহাসড়কের পাশে এম্বুলেন্স থামিয়ে চাকা মেরামত করা হচ্ছিলো। এ সময় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে অ্যাম্বুলেন্সকে ধাক্কা দেয় এবং দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্স আরোহীদের চাপা দেয়।
এতে বাসচাপায় অ্যাম্বুল্যান্সের এক নারী আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে মৃত্যু হয় আরও ৪ জনের।
দুর্ঘটনায় আহতরা জানান, তাদের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার মিঠাপুকুর এলাকায়। বিল্লাল ফকিরের স্ত্রী রোজিনা বেগম (৩০) অন্তঃসত্ত্বা। চলতি মাসের ২৩ তারিখ তার বাচ্চা প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ।
তবে গতরাত থেকে তার ব্যাথা হচ্ছিল। এ জন্য সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাতে পরিবারটির ১০ জন মিলে ঢাকার পথে আসছিলেন। ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কথা ছিল।
তবে অ্যাম্বুলেন্সে করে রওনা দেয়ার পর এক্সপ্রেসওয়ের নীমতলা এলাকায় আসার পরে এম্বুলেন্সের চাকা ব্লাস্ট হয়ে যায়। এরপর রাস্তার ডান পাশে চাপিয়ে সেটির চাকা মেরামত করছিলেন চালক। আর তারা কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে বসেছিলেন,আর কয়েকজন পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।
মেরামত প্রায় শেষের দিকে এ সময় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে এসে সজোরে অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে এক নারীর মৃত্যু হয়।
এছাড়া এম্বুল্যান্সের ভিতরে ও বাহিরে থাকা আরোহীরা গুরুতর আহত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে, গুরুতর আহতদের মধ্যে চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী।
এর আগে সংবাদ পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে,পরে গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এবং আহত চারজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে।
শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ জানান,ঘটনাস্থলে নিহত একজনের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এছাড়া আহত অবস্থায় ঢাকায় পাঠানোর পর যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিচয় সনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করা হবে পরিবারের স্বজনদের কাছে।
এদিকে হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত বাস ও অ্যাম্বুলেন্সটি,এ ঘটনায় যাত্রীবাহী বাসটি জব্দ করেছে পুলিশ। তবে দুর্ঘটনার পরেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়েছে অভিযুক্ত বাসের চালক ও হেল্পার। এছাড়া দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়ি মাদারীপুর এলাকায় বলে জানিয়েছেন তিনি।