নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় দেখা দেয়া আকস্মিক মেঘনার ভাঙ্গনে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকা নদীর তীরবর্তী দুটি গ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান রতন। তিনি জানিয়েছেন,নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ আগামীকাল থেকেই শুরু হবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম।

বুধবার বেলা ৩টার দিকে তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গেও সমস্যা সমাধানের জন্য আশ্বাস দিয়ে মত বিনিময় করেন।

এদিকে সরেজমিনে (৮ জুলাই) বিকেলে ঘুরে দেখা গেছে, বর্ষা শুরু হওয়ার পর মেঘনা নদীর তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে ইসমানিরচরে ভাঙনের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। ফলে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে অনেক পরিবারের। মেঘনার ভাঙ্গন থেকে নিজেদের বসতবাড়ি ও ভিটেমাটি বাঁচাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

স্থানীয়রা জানান,নদীতীরবর্তী বসতঘর, ফসলি জমি ও গাছপালা তীব্র ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীর পাড়ের আতঙ্কিত এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা নদীর প্রবল স্রোতের কাছে টিকছে না।

অভিযোগ রয়েছে,প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। অনেক পরিবার একাধিকবার বসতভিটা স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে। তবে এবার কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় সম্ভাবনা দেখা দেয় জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেকেই।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, কৃষিজমি ও জানমাল রক্ষা পাবে এবং দীর্ঘদিনের নদীভাঙন আতঙ্ক থেকে মুক্তি মিলবে অন্তত দুই শতাধিক পরিবারের।

তবে ভাঙ্গন ঠেকাতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত চিহ্নিত এলাকাগুলোতে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে আপদকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন (মুন্সিগঞ্জ সদর ও গজারিয়া) উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান রতন। তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে জরুরি কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি গজারিয়া উপজেলার ইসমানিরচর এলাকায় স্থায়ী সুরক্ষার জন্য আমি ডিও লেটার দিয়েছি। আশা করছি, স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজও অচিরেই শুরু হবে।

এ সময় মেঘনার ভাঙ্গন ঝুঁকিতে থাকায় এলাকা পরিদর্শন কালে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন,গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদা মোস্তফা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য প্রফেসর গিয়াসউদ্দিন ও মুহাম্মদ মাসুদ ফারুক, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক মুন্না, সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী নূরে জান্নাত রশ্নি, ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার সহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।