
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চলতি মাসের শেষদিকে প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
বুধবার বেলা ৩টার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নুরুল হক নুর আরও বলেন, ‘প্রবাসী কার্ড’ এটিএম কার্ডের মতো ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং লেনদেনের পাশাপাশি দেশে ফিরে সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণেও সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও কার্ডধারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও দেশে ফেরার পর সরকারি সেবা গ্রহণকে সহজ করতেই এ কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বিরোধীদল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নূর বলেন,বিদুৎ সমস্যা নিয়ে বিরোধী দল বিভ্রান্তি ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে মানুষকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন,বাংলাদেশের নিজস্ব গ্যাস সীমিত। বিদুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশীদের বিভিন্ন কারিগরি সহায়তা নিয়ে বিদুৎ উৎপাদন করতে হয়।
বিদুৎ উৎপাদন করতে কয়লা ও গ্যাস লাগে ফলে এ গুলো বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় ডলারে। বিদেশ থেকে বিদেশি মুদ্রা দিয়েই কেনাকাটা করতে হয়। তিনি আরও বলেন, বিগত সময় আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের লুটপাট ও টাকা পাচারের কারণে দেশে খুব বেশি বিদেশি মুদ্রা নাই। যে কারণে সরকারকে বিদেশি মুদ্রা রেখে কাজ করতে হচ্ছে।
তবে অন্তরবর্তী সরকারের সময় থেকে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে উল্লেখ করে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রেমিটেন্সের রিজার্ভ বৃদ্ধির জন্য বৈধ পথে পাঠাতে হবে রেমিটেন্স, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ -জ্বালানি সহ বিভিন্ন সংকট নিরসন করা সম্ভব হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, কৃষিকার্ড, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। সরকার ভালো ভালো পদক্ষের দিকে আগাচ্ছে , কিন্তু ছয় মাসে অনেক কিছু করা সম্ভব নয়, সরকারকে সময় দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ রাজুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৌরভ ইসলামের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু সহ আরো অনেকে। এ সময় অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা সহ গণঅভ্যুত্থানের বিষয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে,একই-দিন বেলা ১টার দিকে মুন্সিগঞ্জের উত্তর ইসলামপুর এলাকায়, জুলাই শহীদের কবর জিয়ারত শেষে, সরকারি হরগঙ্গা কলেজ মাঠে নিজ হাতে বৃক্ষরোপন করেন প্রতিমন্ত্রী নূর।
