
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পানিতে ডুবে প্রাণ গেছে এক নারী ও এক শিশু সহ দুজনের। এসব ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ রবিবার (২৬ জুলাই) উপজেলার গাওদিয়া ও বৌলতলী ইউনিয়নে আলাদা সময়ে এ দুটি ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এমন মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতদের পরিবার ও এলাকাজুড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাওদিয়া ইউনিয়নের শামুরবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মিহিতা আক্তার (ববি) (৩৪) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির কাপড় ধোয়া শেষে, পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামেন। পরে একপর্যায়ে তিনি নদীর পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন।
বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে তাকে নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মিহিতা আক্তার কৃষক ও গবাদিপশু পালনকারী শরিফ শিকদারের স্ত্রী। তিনি এক ছেলে (১৫) ও এক মেয়ে (সাড়ে ৭ বছর) সন্তানের মা বলে নিশ্চিত করেছে পরিবার।
নিহতের বড় জা আইরিন আক্তার জানান, মিহিতা আক্তার কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। মাঝে-মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়তেন। ধারণা করা হচ্ছে, শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণেই নদীতে নামার পরে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে আরিফা (সাড়ে ৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে স্থানীয় আওলাদ শেখের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,পরিবারের সদস্যদের অজান্তে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে গেলে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
দুটি ঘটনা নিশ্চিত করে,লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বোরহান উল ইসলাম জানান, পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায়,সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হবে। তবে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত ও সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো জানান,পৃথক এ দুইটি মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের আবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মরদেহ পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।