টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম মো. আরিফ। তিনি ওই উপজেলার সারংপুর গ্রামের মৃত আরদশ আলীর ছেলে।
আরিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর মা ও বোনের সহায়তায় স্ত্রী জোছনা আক্তারের (২৫) শরীরে ১১ মার্চ আগুন ধরিয়ে দিলে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। গত মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, নিহত জোছনার মা খালেদা বেগম বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতেই নাগরপুর থানায় মামলা করেন। বুধবার অভিযুক্ত আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় আরিফ ছাড়াও তাঁর মা জোহুরা বেগম (৪৭) ও বোন রনি বেগমকে (২৫) আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আট মাস আগে নাগরপুরের সুদামপাড়া গ্রামের আবদুল লতিফ মিয়ার মেয়ে জোছনা আক্তারের সঙ্গে আরিফ মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আরিফের মা ও বোন নানাভাবে নির্যাতন করতেন জোছনাকে। তাঁদের অত্যাচারের জোছনা একাধিকবার বাবার বাড়ি চলে যান। সর্বশেষ ৯ মার্চ আরিফ জোছনাকে বাবার বাড়ি থেকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর ১১ মার্চ জোছনা তাঁর শ্বশুরবাড়ির রান্না ঘরে কাজ করছিলেন। এ সময় আরিফ, তাঁর মা জহুরা বেগম ও বোন রনি বেগম পরিকল্পিতভাবে চুলার আগুন জোছনার শরীরে ধরিয়ে দেন। এতে দগ্ধ অবস্থায় জোছনাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এবং সর্বশেষ ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানেই গত মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়।