- মুন্সিগঞ্জ প্রতিদিন - https://munshiganjprotidin.com -

মুন্সিগঞ্জে প্রথম বিয়ে গোপন রাখাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী হ.ত্যা: গ্রেফতার ইমামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার বলিয়াগাঁও ইউনিয়নে স্ত্রীর প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রাখাকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরে গৃহবধূ মোছা. আছমা আক্তার (২৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই জানায়,গৃহবধূ আছমা আক্তারের এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখায় স্বামী ইমাম মুহাসিন মাতুব্বরের (৩২) সঙ্গে প্রায়ই তাদের পারিবারিক কলহ ও বাগবিতণ্ডা হতো। সেই সূত্র ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের অভিযুক্ত স্বামী ইমাম মো. মুহাসিন মাতুব্বরকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপ-পুলিশ পরিদর্শক রনি দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান,পুলিশের অভিযানে গত ৭ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

এর আগে,গত ৬ জুলাই সকালে পারিবারিক কলহের জেরে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে মুহাসিন আছমাকে মারধর করেন। পরে ধাক্কা দিলে তিনি কাঠের পাটাতনে পড়ে গুরুতর আহত হন। এরপর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে জানায় পিবিআই।

এ ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী চার বছরের কন্যাকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে নিহতের ভাই শামীম তালুকদার বাদী হয়ে গত ৭ জুলাই টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে ছিলেন। সেই সূত্র ধরেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ।

তিনি জানান,গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আমলি আদালত-৪-এ হাজির করা হলে বিচারক শফিকুল ইসলাম-এর আদালতে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আসামি জবানবন্দিতে জানান, প্রায় চার মাস আগে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়। তবে আছমা আক্তারের পূর্বে দুইবার বিয়ে হয়েছিল, যা স্বামীর কাছে গোপন রাখায় তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত।

অভিযুক্ত ব্যক্তি জানিয়েছে,ঘটনার আগের দিন এশার নামাজের পর বাসায় ফিরে পুরোনো জামা পড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মুহাসিন আছমাকে মারধর করেন এবং তার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন।

ঘটনার দিন ৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সকালের খাবার প্রস্তুত না থাকায় আবারও তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। এ সময় আছমা মাথাব্যথার কথা জানালে মুহাসিন তার পূর্বের বিয়ে নিয়ে কটূক্তি ও গালিগালাজ করেন।

একপর্যায়ে তিনি আছমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং গলায় চেপে ধরে ধাক্কা দিলে তিনি কাঠের পাটাতনে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে একটি কালো ওড়না দিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে মরদেহ ঝুলাতে ব্যর্থ হয়ে খাটের ওপর রেখে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান নিহতের স্বামী অভিযুক্ত ইমাম।

পিবিআই জানায়,টংগিবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব বালিগাঁও এলাকায় জনৈক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম শেখের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন আছমা আক্তার ও তার স্বামী মুহাসিন মাতুব্বর। তাদের সঙ্গে ছিল চার বছর বয়সী কন্যা মাইশা আক্তার।

পরে সেই সূত্র ধরে,পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়, সাংসারিক কলহ ও মনোমালিন্যের জের ধরে ৬ জুলাই সকাল ১১টা ১০ মিনিট থেকে ১১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে নিহত গৃহবধূ আছমা আক্তারকে মাথা, গলা, শ্বাসনালী ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করে হত্যা করা হয়।

পরে ৭ জুলাই পিবিআই মুন্সিগঞ্জ স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিপিআই জানায়, অতিরিক্ত আইজিপি (পিবিআই) মো. মোস্তফা কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান, বিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে এসআই (নিঃ) রনি দেবনাথের নেতৃত্বে একটি দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে।

পিবিআই আরও জানায়,গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মুহাসিন হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।