- মুন্সিগঞ্জ প্রতিদিন - https://munshiganjprotidin.com -

পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দুর্বিষহ ভোগান্তি

বিশেষ প্রতিবেদক: 

মুন্সিগঞ্জে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষা র্থীদের ৬দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচির কারণে,প্রায় সাড়ে চার ঘন্টার ও বেশি সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে ঢাকা মুন্সিগঞ্জ ও মুক্তারপুর সড়কে,এতে অসহনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহন চালক ও যাত্রীদের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন জরুরী রোগীবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারিগরি ছাত্র আন্দোলন ব্যানারে বিক্ষোভ ও ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা, এ সময় ক্রাইফ ইন্সট্রাক্টরদের অবৈধ পদোন্নির রায় উচ্চ আদালত থেকে বাতিল সহ ৬দফা দাবি জানানো হয়। এছাড়া শীঘ্রই দাবী আদায় না হলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেয়া হয় কর্মসূচি থেকে।

এদিকে বিক্ষোভের কবলে যানচলাচল বন্ধে তৈরি হয় তীব্র যানজট। এতে টানা কয়েক ঘন্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে।

পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সড়ক অবরোধ করে নানা স্লোগানে দিয়ে দ্রুত ৬ দফা দাবি মেনে নেয়া না পর্যন্ত সড়কে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

এরপর বিকেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর,অনুরোধে সড়ক থেকে সরে দাঁড়ান শিক্ষার্থীরা,এতে দীর্ঘ সময় পর যান চলা চল স্বাভাবিক হয়,ঢাকা মুন্সিগঞ্জ সড়কে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে,মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলম জানান,বুধবার সকাল ৯টা থেকেই মিরকাদিমের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দলবদ্ধ হয় শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল করে বেলা পৌনে ১২টার দিকে কয়েক’শ শিক্ষার্থী মুক্তারপুর সেতুতে জড়ো হয়। এরপর এক পর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে তারা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়ে সেখানে বসে পড়ে। এতে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায় মুক্তারপুর সেতুতে।

পরে সেখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ সহ প্রশাসনের লোকজন অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করলেও কাজে আসেনি। তবে মুষলধারে বৃষ্টি হলে বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সড়কের অবস্থার কর্মসূচি থেকে সরে যান অবরোধকারীরা। দীর্ঘ সময় পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ৬দফা দাবি তুলে ধরেন, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্র্যাফট ইনস্ট্রাক্টরদের ৩০ শতাংশ প্রমোশন কোটা বাতিল করতে হবে। জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে ক্র্যাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদোন্নতির রায় হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল করতে হবে। ক্র্যাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদবি পরিবর্তন ও মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের চাকরিচ্যুত করার কথা উল্লেখ করা হয়।