- মুন্সিগঞ্জ প্রতিদিন - https://munshiganjprotidin.com -

ডিজিটাল স্মারকে শেকড়ের প্রতিচ্ছবি, ঐতিহ্যে প্রজন্মের বন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নদীভাঙন ও সময়ের পরিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো ছবি, নাম, নথি ও পারিবারিক স্মৃতি। এসব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের ভূতারচর গ্রামের ‘ভূতারচর পুরাতন সরদার বাড়ি’ উদ্যোগে শুরু হয়েছে ডিজিটাল স্মারক কার্যক্রম।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এ উদ্যোগে পূর্বপুরুষ ও বর্তমান প্রজন্মের ছবি, পরিচয়, নথি, পারিবারিক ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক অবদানের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। লক্ষ্য—নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করা ও হারানো স্মৃতি ধরে রাখা। উদ্যোক্তারা বলেন, নিজের ইতিহাস জানা শ্রেষ্ঠত্ব নয়; এটি পরিচয় ও অতীত জানার মাধ্যম। পাশাপাশি সব পরিবার ও বংশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান, সৌহার্দ্য ও মানবিক বন্ধনই তাঁদের প্রত্যাশা।

উদ্যোক্তাদের বক্তব্য

মো. জাহাঙ্গীর আলম, মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক: “পারিবারিক ইতিহাস শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও মূল্যবোধ গঠনে সহায়তা করে।”

কেমিস্ট মো. হুমায়ুন কবির: “পূর্বপুরুষদের ভালো কাজ সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনুপ্রেরণা পাবে।”

একজন আইন শিক্ষার্থী, এমবিএ ও স্টার্ট আপ উদ্যোক্তা: “নিজেদের ইতিহাসের পাশাপাশি সকল পরিবার ও বংশের ঐতিহ্যের প্রতি সমান সম্মান রাখাই আমাদের প্রত্যয়।”

মো. জাকির হোসেন, স্থানীয় সমাজ সংগঠন কর্মী: “বিপদে পাশে দাঁড়ানো ও পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতিও সামাজিক ইতিহাসের অংশ।”

ফাতেমা আক্তার, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষিকা: “পূর্বপুরুষের গল্প শিশুদের শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করে।”

আশিকুর রহমান, ব্যাচেলর শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী: “ডিজিটাল মাধ্যমেই হারানো স্মৃতি সহজে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।”

তৌহিদুর রহমান কাকন, সার্ভেয়ার ও ল্যান্ড: “পুরোনো দলিল, জমি ও বসতির তথ্য ভবিষ্যতে শেকড় অনুসন্ধানে সহায়ক হবে।”

মারইয়াম আক্তার, স্নাতক পর্যায় শিক্ষার্থী: “পরিবারের নারীদের জীবন, অবদান ও স্মৃতিও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

মো. আবদুর রহিম সরদার, স্থানীয় সভার সদস্য: “ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা পরিবার ও সমাজকে সুন্দর করে।”

একজন প্রকৌশল শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তা: “সুশৃঙ্খল ডিজিটাল আর্কাইভ একটি গ্রামের স্মৃতিকেও ভবিষ্যতে ঐতিহাসিক সম্পদে পরিণত করতে পারে।”

মো. আমানত সরদার, ব্যবসায়ী: “পূর্বপুরুষদের সততা, পরিশ্রম ও কর্মনিষ্ঠা আমাদের প্রজন্মের বড় সম্পদ।”

মো. শামসুজ্জোহা দোহা, ফার্মেসি উদ্যোক্তা ও হসপিটাল ডক্টর্স সহযোগী : “মানুষের সেবা ও পাশে দাঁড়ানোর মানবিক উদ্যোগগুলোও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ।”

মাওলানা মুফতি যুবায়ের: “নিজের পূর্বপুরুষকে স্মরণের পাশাপাশি অন্যের পরিবার ও ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষাও সামাজিক দায়িত্ব।”
প্রবাসী ব্যবসায়ী এনামুল হক সরদার বাবু জানান: আমরা আমাদের গ্রামের সকল প্রয়াতদের স্মরণ করি এবং সব সময় আমরা আমাদের বংশের পূর্বপূরুষদের সহজবোধ্য জীবন ধারনের চেষ্টা করি।

অন্যান্য উদ্যোক্তা

আ. রশিদ সরদার (মসজিদ ও কবরস্থান পরিচালনা সভার সদস্য), মো. হারুন সরদার (স্থানীয় সভার সদস্য), মো. মনির হোসেন সরদার (ব্যবসায়ী), মো. ছানাউল্লাহ সরদার (ব্যবসায়ী), মো. মেসবাহ উদ্দিন সরদার (প্রবাসী ও স্থানীয় সভা সদস‍্য), মো. নাছির উদ্দিন সরদার (চাকরিজীবী ও স্থানীয় সভা সদস‍্য), মো. কামাল হোসেন সরদার (স্থানীয় সভা সদস‍্য ও ব্যবসায়ী), মো. আল আমিন সরদার (ব্যবসায়ী), মো. রমজান হোসেন হৃদয় সরদার (ব্যবসায়ী), মো. দেলোয়ার হোসেন সরদার (ব্যবসায়ী), মো. বিল্লাল হোসেন সরদার (ব্যবসায়ী), মো. আব্বাস আলী সরদার (প্রবাসী), মো. অহিদুল ইসলাম সরদার (প্রবাসী), মো. আবির হোসেন অন্তর (ব্যবসায়ী), সামছুল ইসলাম (প্রবাসী), মো. মেহেদী হাসান সরদার, সানোয়ার সরদার (ব্যবসায়ী), আলামিন (প্রবাসী), হাফেজ যুবায়ের সরদার, রফিক সরদার (ব্যবসায়ী), নূরুল হুদা (প্রবাসী), আজিম, জিহাদ সরদার (পরীক্ষার্থী), সুজন সরদার (ব্যবসায়ী), জিহাদ (প্রবাসী), শাহাজালাল সরদার (প্রবাসী), নূর মোহাম্মদ (প্রবাসী) ও কামরুল সরদার (ব্যবসায়ী)সহ ভূতারচরের পুরাতন সরদার বংশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আরও অনেকে।

উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ অন্য পরিবার ও বংশকেও নিজ নিজ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে উৎসাহিত করবে।

ছবির ক্যাপশন: ‘ভূতারচর পুরাতন সরদার বাড়ি’ শেকড়, স্মৃতি, ঐতিহ্য ও প্রজন্মের মানবিক বন্ধন সংরক্ষণের একটি ডিজিটাল প্রয়াস।