- মুন্সিগঞ্জ প্রতিদিন - https://munshiganjprotidin.com -

টানা ৪১ দিন ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ’ আদায়-করে মুন্সিগঞ্জের ৯ শিশু-কিশোর পেল সাইকেল

শাহ আমানত মন-(নিজস্ব প্রতিবেদক):

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নে টানা ৪১ দিন মসজিদে জামায়াতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করায় ৯ জন শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীকে সাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। 
একই সঙ্গে নামাজ আদায়ে অংশগ্রহণ ও উৎসাহ প্রদর্শনের জন্য আরও ২৯ জন শিশু-কিশোরকে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) এবং ২ জনকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
শুক্রবার বেলা ২টার দিকে জুমার নামাজের পরে ব্যাতিক্রমী এ আয়োজন করেছেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের “আধারা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন” নামের স্থানীয় সামাজিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
এ সময় অনুষ্ঠানে ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু- কিশোরদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইকেল, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ তুলে দেন আয়োজকরা।
শিশু-কিশোরদের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং নতুন প্রজন্মকে নামাজ ও মসজিদমুখী করতে ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক মো. অন্তর বেপারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আধারা মধ্যপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মো.শহীদুল ইসলাম।
এ সময় সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. হাফিজুল বেপারী, মো. নাজমুল মিজি, মো. রোশাদ বেপারী, মো. ইমরান বেপারী, মো. পারভেজ বেপারী, মো. রিয়াজ খান, মো. দিপু, ফাহিম বেপারী, জুনায়েদ বেপারী সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মকে মসজিদ ও নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের আয়োজন ছড়িয়ে পড়লে তরুণ প্রজন্ম সুশৃঙ্খল, দায়িত্বশীল ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। আগামী প্রজন্ম যাতে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত হয়ে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে তাই সামাজিকভাবে শিশু কিশোরদের জন্য এমন উদ্যোগ নেয়া জরুরী।
এদিকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে শিশু-কিশোর ও তাদের অভিভাবকরা আনন্দ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও আয়োজনটির প্রশংসা করে ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।