- মুন্সিগঞ্জ প্রতিদিন - https://munshiganjprotidin.com -

জুলাইয়ে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এমপি-মন্ত্রী হয়ে শিক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগি বলে বেইমানি করেছি বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, শুধু সরকার বা “চালক” পরিবর্তন করলেই হবে না, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি।

তিনি বাসের ব্রেক ও চাকা পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের তুলনা করে বলেন, জনগণের বড় অংশ এ ধরনের সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ, নির্বাচনের পরেই সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার সরে এসেছে। এছাড়া অতীতের নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, এবারও জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, এনসিপির দাবি শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার।

তিনি পুলিশকে নির্দলীয় ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন।

পরে অনুষ্ঠানে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ এনে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। থানায় হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে তিনি সরকারের ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। তার অভিযোগ, কর্মসংস্থানের পরিবর্তে সরকার দেশে মাদক ও জুয়ার বিস্তার ঘটাচ্ছে।

ফলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জনগণ আবার আন্দোলনে নামবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সরকারের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,জনগণের স্বার্থের চেয়ে নির্বাচনের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাঁর ভাষায়, যে সরকার নির্বাচনের স্বার্থে জনগণের সঙ্গে ধোঁকা দিতে পারে, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রেও তারা জনগণকে ধোঁকা দিতে পারে।

হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের দাবিতে তাঁরা গণভোটের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সেই জনমত উপেক্ষা করে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অতীতের ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগে ভোট চুরি হতো ভোটগ্রহণের আগে, আর এবার জনগণের মতামতই চুরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে রাস্তায় নামা তরুণদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন,শিশু-কিশোরদের ফার্মের মুরগী বলা হচ্ছে। অথচ তাঁদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়েই আজ অনেকে ক্ষমতায় গেছেন।

এরপরে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিক নয়। পাশাপাশি সিরাজদিখানে জমি দখলের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ- সংশ্লিষ্টদের দখল করা অনেক জমি ৫ আগস্টের পর হাতবদল হয়েছে, কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।

সবশেষে তিনি বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এনসিপি আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

পুলিশ সংস্কারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশকে নির্দলীয় ও স্বাধীন করার পরিবর্তে আবারও দলীয়করণের চেষ্টা চলছে। একইভাবে সাংবাদিকদেরও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের দাবি জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যাঁরা আজ বলছেন সংবিধান সংস্কারের সুযোগ নেই, তাঁদের মনে রাখা উচিত, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাও প্রচলিত সংবিধানের বাইরে গিয়ে তৈরি হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী হলে নির্বাচন হত চার বছর পর। আপনাদের নেতাদের জেলে,ধান খেতে থাকতে হতো। তিনি বলেন, সংবিধানের সুবিধাজনক অংশ মানা আর অসুবিধাজনক অংশ অস্বীকার করা গ্রহণযোগ্য নয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। থানায় ঢুকে পুলিশকে মারধর করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সরকার যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণই রাজপথে নামবে।

এ সময় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হাসান জুনায়েদ, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, আবু বকর মজুমদার, মুন্সিগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম এবং জেলা সদস্য সচিব আব্দুল আলীম।

এছাড়াও দলটির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।